আমরা ছোট থেকে পড়াশোনা করা সত্ত্বেও ক্যারিয়ার তৈরি করা নিয়ে আমরা কারো কাছে ভালো গাইড পায়না।আগেকার দিনে যেভাবে ক্যারিয়ার তৈরি করা যেত আজকের দিনে সেই একই রকম পদ্ধতিতে কেরিয়ার তৈরি করা সহজ নয়।

আগে চাকরির জন্য যে সমস্ত যোগ্যতা থাকলে হয়ে যেত সেই যোগ্যতাগুলি এখনকার দিনে আপনাকে চাকরি নাও জোগাড় করে দিতে পারে। এই ইন্টারনেটের যুগে আমরা এখন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেছি। আর এখনও ছাত্ররা এটা মনে করে যে তারা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করার পর যদি কম্পিউটারের কোন সাধারণ কোর্স করে নেয় বা ট্যালি শিখে ফেলে তাহলেই হয়তো তারা কোন চাকরির যোগ্য হয়ে যাবে।

আজ থেকে 10 বছর আগে সত্যিই এটা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন চাকরি আর সাধারণ কম্পিউটারের নলেজ থাকলে বা ট্যালি জানতে গেলেই হয় না।

চাকরি পাওয়ার জন্য আমাদেরকে জানতে হবে যে চাকরি কত রকমের হয়। আমাদের জানতে হবে যে আমাদের দেশে কত রকমের সেক্টর রয়েছে যেখানটাতে নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে চাকরি পাওয়া যেতে পারে।

সরকারি চাকরি একমাত্র চাকরি নয় How to get job

আজকের সময়ে তুমি যদি এখনো মনে কর যে সরকারি চাকরি একমাত্র চাকরি তাহলে আমি বলব যে তুমি আরেকবার ব্যাপারটা বিবেচনা করে দেখ।

তুমি হয়তো সরকারি চাকরির চেষ্টাতে বছরের পর বছর পার করে যাবে আর হয়তো তোমারই বন্ধু সে বেসরকারি চাকরি করে বছরগুলিকে কাজে লাগিয়ে সে একটা এমন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে যে তখন তোমার মনে হবে আমি কেন বছরগুলোকে এভাবে নষ্ট করলাম।

বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ বছরের কম চাকরিপ্রার্থীদের চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ৩০ বছর পার হয়ে গেলেই তোমার বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ভ্যালুয়েশন অনেক কমে যাবে।

কেউ যদি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে যে কোন নিচু পদে বেসরকারি কোম্পানিতে যোগদান করে তবে সে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সে যে কোন কোম্পানির একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে ভালো বেতনে পৌঁছে যেতে পারে।

এখনকার যুগে বেসরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য কি কি যোগ্যতা থাকা দরকার? How to get job

বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি পাওয়ার জন্য প্রথম যে যোগ্যতাটি থাকা আবশ্যক সেটি হল ইংলিশে কথা বলতে পারা।

ইংলিশে কথা বলতে পারলেই যে কোন কল সেন্টারে চোখ বন্ধ করে 10 থেকে 15 হাজার টাকার চাকরি পাওয়া যায়। কল সেন্টারে চাকরি করতে গেলে শুধুমাত্র ইংরেজিতে কথা বলতে পারলেই চলে। তবে কল সেন্টারের চাকরি কে কখনোই ক্যারিয়ারের পার্মানেন্ট সলিউশন হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

কল সেন্টারের চাকরি আই টি ই এস সেক্টর এর মধ্যে পড়ে যেটার পুরো অর্থ হলো ইনফরমেশন টেকনোলজি এনেবেলড সার্ভিসেস। তবে এটা বলা ভুল হবে যে কল সেন্টারে কাজ করতে গেলে শুধু যে কলিং এরই জব থাকে।

কল সেন্টারে কি কি ধরনের পোস্ট থাকে

একটি কল সেন্টারে বিভিন্ন ধরনের চাকরি থাকে যেমন এক্সিকিউটিভ পোস্ট যেখানে চাকরিপ্রার্থীকে কল করতে বা কল রিসিভ করতে হয়। এক্সিকিউটিভ এর ওপরের পোস্টটি হল কোয়ালিটি এক্সিকিউটিভ যেখানে চাকরিপ্রার্থীকে যে কল গুলো করা হচ্ছে বা রিসিভ করা হচ্ছে কলিং এক্সিকিউটিভদের দ্বারা সেই কল গুলোকে পরীক্ষা করতে হয়।

এরপরে আরেকটি পোস্ট থাকে যে পোস্টটির নাম হলো টিম লিডার পোস্ট যেটাকে সংক্ষেপে বলা হয় টি এল। টি এল দের কাজ হল কলিং এক্সিকিউটিভ দেরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া। প্রত্যেকটি টি এলদের অন্তর্গত কিছু পরিমাণ কলিং এক্সিকিউটিভ এর অ্যাসাইন করা হয়।

টিম লিডাররা ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সেটিকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য একজন ম্যানেজার থাকে এবং সমস্ত টিএলরা সেই ম্যানেজার এর অধীনে থাকে।

এই সমস্ত পদ ছাড়াও আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পথ থাকে সেই পদটির নাম হল ট্রেনার। ট্রেনারের কাজ হল নতুন কলিং এক্সিকিউটিভ দের, নতুন টিএলদের, ম্যানেজারদের এমন কি নতুন ট্রেনারদেরকেও কোম্পানির সার্ভিস এর ব্যাপারে ট্রেনিং দেওয়া। যাতে তারা কোম্পানির সমস্ত কাজকে ঠিকঠাক বুঝে কোম্পানিকে সঠিকভাবে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

এই সমস্ত পোস্ট ছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টের নাম হলো হিউম্যান রিসোর্স বা এইচ আর। এইচ আর একজন বা এইচ আরদের একটি টিম হতে পারে। এইচ আর দের কাজ হল এম্প্লয়িসদের ঠিক টাইমে সেলারি দেওয়া, নতুন এমপ্লয়ি হায়ার করা, এমপ্লয়ীদের মধ্যে কোন সমস্যা হলে সেটা সমাধান করা ইত্যাদি।

কারো কোন চাকরির এক্সপিরিয়েন্স যদি প্রথম থেকে না থাকে তবে সে প্রথমেই ট্রেনার, টি এল, কোয়ালিটি বা ম্যানেজার বা এইচ আর পোষ্টের জন্য এলিজাবেল হয় না। তাকে কোম্পানির একটি নিচু পোস্ট থেকেই শুরু করতে হয় এবং আস্তে আস্তে প্রমোশনের মাধ্যমে তাকে উপরে উঠতে হয়।

তবে যদি ট্যালেন্ট থাকে সেই ক্ষেত্রে সরাসরি ট্রেনার বা টি এল হওয়া সম্ভব। যেমন আমি আমার ক্যারিয়ার একজন ট্রেনার হিসেবে শুরু করেছিলাম। যদিও সেটা এডুকেশন সেক্টরে। তবে আমারও কল সেন্টারে চাকরি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তবে সেটা দু মাসের জন্য।

কল সেন্টারের চাকরি একমাত্র চাকরি নয়

চাকরির কথা বলতে গেলেই কল সেন্টারের কথা এই কারণে উঠে আছে কারণ কল সেন্টার আই টি ই এস সেক্টরের মধ্যে পড়ে। এবং এই সেক্টরে প্রচুর পরিমাণে চাকরির ভেকেন্সি থাকে এবং সেটা সারা বছর ধরে থাকে। তবে যে সবাইকে এই সেক্টর দিয়েই ক্যারিয়ার স্টার্ট করতে হবে এরকম কোন মানে নেই।

আমাদের দেশে কিছু সেক্টর রয়েছে যারা প্রচুর পরিমাণে এমপ্লয়িসদের হায়ার করে থাকে। সেই সেক্টর গুলি হল আইটি সেক্টর, আই টি ই এস সেক্টর, টেলিকম সেক্টর, হেলথ কেয়ার সেক্টর, ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টর এবং রিটেল সেক্টর।

তুমি কোন সেক্টরে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে চাও সেটা বোঝার জন্য তোমাকে আগে জানতে হবে এই সেক্টর গুলি কি বিষয় নিয়ে কাজ করে। এই সেক্টর গুলিতে কি ধরনের পজিশন্স থাকে। এবং সেই পজিশনগুলিতে চাকরি পাওয়ার জন্য কি ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন হয়?

চাকরির ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করি এডুকেশন সেক্টর থেকে একজন ট্রেনার হিসেবে। এবং ধীরে ধীরে আমি আমার যোগ্যতাকে একটি নির্দিষ্ট দিকে বাড়িয়ে তুলি যেটি আমাকে একটি ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করতে সাহায্য করে। আমি যে নির্দিষ্ট দিকে নিজের যোগ্যতাকে বাড়িয়ে তুলেছি সেই যোগ্যতার দ্বারা ভবিষ্যতে আমি যে কোন সেক্টরেই কাজ করতে পারবো। আমি যে যোগ্যতাটির কথা বলছি সেই যোগ্যতাটির নাম হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং

এটি একটি এমন স্কিল যার প্রয়োজন প্রত্যেক সেক্টরে থাকে। যতগুলি সেক্টর আমাদের দেশে রয়েছে তাদের প্রত্যেককেই দুটি সেক্টরের উপরে কোনো না কোনোভাবে নির্ভর করতে হয় সেই সেক্টর দুটির নাম হল আইটি এবং আই টি ই এস সেক্টর। তবে আই টি ই এস সেক্টর মানে শুধু কল সেন্টার নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অন্যান্য সেক্টর গুলি প্রয়োজনে কোন আইটি কোম্পানি কে দিয়ে কাজ করানোর থেকে আইটিতে যোগ্যতা সম্পন্ন এমপ্লয়েজদের কে হায়ার করে থাকে।

ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়াও গ্রাফিক ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইনার এবং ভিডিও এডিটিং যোগ্যতা সম্পন্ন এমপ্লয়ীদের কে হায়ার করা হয়ে থাকে। তার কারণ হলো এখন কম্পিটিশন শুধুমাত্র অফলাইনে হয় না। অনেক বেশি কম্পিটিশন এখন অনলাইনে হয়। তাই যে সমস্ত কোম্পানি সার্ভিস এবং প্রোডাক্ট সেল করে থাকে তাদের এই যোগ্যতা সম্পন্ন এমপ্লয়েসের প্রয়োজন হয় যারা সেই কোম্পানির জন্য ইন্টারনেট থেকে কাস্টমার ইনকয়ারি এনে দেবে এবং ব্র্যান্ডের ভ্যালুকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন: ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স কিভাবে আমাদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে?

Leave a Reply