এটি আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রথম অধ্যায় এই অধ্যায়ে আমরা জানবো কেমন করে একটি ওয়েবসাইট কিনতে হয় এবং তাকে ইন্টারনেটে লাইভ করতে হয় যাতে যে কেউ সেই ওয়েবসাইটটা খুঁজে পেতে পারে।

একটি ওয়েবসাইটের সাধারণত দুটি অংশ থাকে প্রথম অংশটি হলো ডোমেন এবং দ্বিতীয় অংশটি হলো হোস্টিং। ডোমেইন বলতে ওয়েবসাইটের নাম কে বোঝায়। আমরা যে নামে ওয়েবসাইটটি কিনবো সেটিকে বলা হয় ডোমেন নেম।

আমরা যখন ওয়েবসাইটের জন্য কোন নাম পছন্দ করি তখন সেই নামটির সাথে আমাদেরকে একটি এক্সটেনশন ও বেছে নিতে হয়। এক্সটেনশন সাধারণত ডট কম, ডট ওআরজি, ডট নেট ইত্যাদি হয়ে থাকে। আমরা যে ওয়েবসাইটটির নাম এবং যে এক্সটেনশন বেছে নিব সেই ওয়েবসাইটটি আমাদের নামে রেজিস্টার হয়ে যাবে এবং পৃথিবীর কেউ সেই একই নাম সেই এক্সটেনশন দিয়ে কিনতে পারবে না। কারণ যখন আমরা ডোমেন নেম উইথ এক্সটেনশন পারচেজ করব সেখানে সেই ডোমেন নেম টির সাথে আমার নাম, এড্রেস এবং ফোন নাম্বার রেজিস্টার্ড হয়ে যাবে।

ডোমেন নেম মিনিমাম এক বছরের জন্য রেজিস্টার করতে হয় যেটিকে বছর বছর রিনিউ করা যায়। আমরা চাইলে সেই ডমেইন কে দু’বছর, তিন বছর, চার বছর বা 5 বছরের জন্য রেনিউ করে নিতে পারি।

ডোমেন যদি এক্সপায়ার করে যায় অর্থাৎ আমাদের যে সময় সেটা রেনিউ করা উচিত সেই ডেট যদি পার হয়ে যায় তবে সেই ডোমেন্টটি আমাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তবে যেখান থেকে আমরা ডোমেটি পারচেজ করব সেই প্ল্যাটফর্ম যদি চাই তবে কিছুদিন অব্দি এক্সপায়ার ডোমেনটিকে হোল্ড করে রাখতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সেই প্ল্যাটফর্মের কাস্টমার কেয়ার থেকে আমরা কল পেতে পারি যে আমাদের ডোমেন্ টি এক্সপায়ার হয়ে গেছে অথবা এক্সপায়ার হয়ে যাবে এই বিষয় নিয়ে।

ডোমেন কেনার সময় আমাদের কোন বিষয়গুলির ওপরে নজর রাখতে হবে?

ডোমেন কেনার সময় কয়েকটি ব্যাপারে উপরে আমাদের নজর রাখা উচিত যেমন ডোমেন নেম যত ছোট হবে তত সেটাকে মনে রাখার সুবিধা রয়েছে। তাছাড়াও সেই ডমেইন নেমটিকে আমরা খুব সহজে ভিজিটিং কার্ড, অ্যাডভার্টাইজিং ব্যানার এই জায়গা গুলিতে প্রদর্শন করতে পারি। যেটি খুব সহজে সাধারণ মানুষের চোখে পড়বে এবং মনে রাখা সহজ হবে। তাছাড়াও সেই নামটা যদি কোন মিনিংফুল নাম হয় তবে সেটিকে দীর্ঘদিন মনে রাখতে সুবিধা হবে।

ডোমেন কেনার সময় আমি যে উপরের পদ্ধতিটার কথা বললাম সেটি ছাড়াও আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি রয়েছে যেটি ব্যবহার করে আমরা একটি ডোমেইন কিনতে পারি। সেটি হল যখন আমরা ডোমেন কিনছি সেই ডোমেনের যে নাম রয়েছে সেই নামের মধ্যে যদি কোন কিওয়ার্ড থাকে। keyword হলো এমন একটি বা একগুচ্ছ শব্দ যে শব্দ সাধারণত মানুষেরা ইন্টারনেটে কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বা কোন সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে জানতে গুগলে সার্চ করে থাকে।

আমি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝায়, মনে করা যাক আমি দুর্গাপুর নামে একটি শহরে ঘুরতে গেছি এবং সেই শহরে আমার একটি হোটেলের প্রয়োজন। আমার হোটেল প্রথম থেকে বুক করা নেই আমি ট্রেন থেকে নেমে বা বাস থেকে নেমে ফোনে গুগল এ সার্চ করছি হোটেল এর ব্যাপারে তো আমি কি লিখে সার্চ করব আমি সার্চ করতে পারি? হোটেল নিয়ার মি অথবা হোটেল ইন দুর্গাপুর। তাহলে দুর্গাপুর শহরে যে সমস্ত হোটেল রয়েছে সেই সমস্ত হোটেলের নামগুলি আমি গুগলের সার্চে দেখতে পাবো। এবার একটা মজার বিষয় হল আমি যদি হোটেলের মালিক হই আর আমার হোটেলে যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে সেই ওয়েবসাইট টার নাম হলো হোটেলইনদুর্গাপুর.কম এই ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি ইন্টারনেটের সার্চ করছে হোটেল ইন দুর্গাপুর ওয়ার্ড লেখে সেটি আমার ওয়েবসাইটের নামের সাথে এক্সাক্ট ম্যাচ করে যাচ্ছে এর ফলে আমার যে ওয়েবসাইটের রেজাল্ট থাকবে সেটিও গুগল সার্চের প্রথম পেজে চলে আসবে। এটি একটি এসইও টেকনিক। এর ফলে আমরা খুব সহজে ফ্রিতে ভালো পরিমাণ বিজনেস পেতে পারবো ইন্টারনেট থেকে।

তাহলে যখন আমরা একটি ওয়েবসাইট কিনব তখন আমরা ওপরের যে দুটি বিষয় এর ব্যাপারে আমি বললাম এই দুটি বিষয়ের উপরে বিবেচনা করে ওয়েবসাইট কিনব।

কম দামে ডোমেন আমরা কোথা থেকে কিনব?

বর্তমানে ইন্টারনেটে বহু ওয়েবসাইট রয়েছে যেখান থেকে আমরা ডোমেইন কিনতে পারি কিন্তু ডোমেইন কেনার সময় আমাদেরকে এটা মাথায় রাখতে হবে যে সেটি আমাদের বিজনেস কে রিপ্রেজেন্ট করছে তাই আমাদের একটি খুব বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকেই ডোমেন কেনা উচিত এইরকম একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান যে প্রতিষ্ঠানটি বহুদিনের পুরনো এবং এখানে খুব কম দামে ডোমেন পাওয়া যায়। নিচের বাটনটিতে ক্লিক করে আপনারা সেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে আরো ডিটেলসে জানতে পারেন।

ওয়েব হোস্টিং কি করে কিনব?

ডোমেন কেনা হয়ে গেলে এরপরেই আমাদের ওয়েব হোস্টিং কিনে নিতে হবে। ওয়েব হোস্টিং হল একটি অনলাইন কম্পিউটারের মত যেটিকে সার্ভার ও বলা যায়। আমরা যে কম্পিউটারগুলি ইউজ করি, সেই কম্পিউটারে একটি সিপিইউ থাকে, একটি ram এবং একটি হার্ডডিক্স থাকে।

তাছাড়া কম্পিউটারটিকে ব্যবহার করার জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা থাকে, কম্পিউটার কেনার পর আমরা কম্পিউটারে আমাদের পছন্দমত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ইন্সটল করে থাকি। ওয়েব হোস্টিং ও প্রায় একই রকম কনসেপে কাজ করে। ওয়েব হোস্টিং সাধারণত লিনাক্স সার্ভার অথবা উইন্ডোজ সার্ভার হয়ে থাকে আমাদেরকে এটা মাথায় রাখতে হবে যখন আমরা ওয়েব হোস্টিং কিনব তার সাথে যেন সি প্যানেল থাকে। সি চ্যানেল একটি বিখ্যাত ইউজার ইন্টারফেস যে ইউজার ইন্টারফেসটি ব্যবহার করে আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে আমাদের যাবতীয় ফাইল আপলোড করতে পারি ওয়েবসাইট টা কে ম্যানেজ করতে পারি এবং ওয়েবসাইটের উপরে নিজের পছন্দমত ওয়েব এপ্লিকেশনও ইন্সটল করতে পারি। এটি ছাড়াও সি প্যানেলের আরো অনেক রকমের ব্যবহার রয়েছে আমরা ফি প্যানেল নিয়ে যত চর্চা করব ততই আমাদের ওয়েবসাইটকে আরো ভালোভাবে পরিচালনা করার জ্ঞান বাড়বে।

সিপ্যানেল হোস্টিং বা ওয়েব হোস্টিং উইথ সিপ্যানেল এর দাম অন্যান্য হোস্টিং এর তুলনায় অনেক কম হয়। অনেক ওয়েবসাইট ইউজাররা সিপ্যানেল হোস্টিংকে একটু কমপ্লেক্স মনে করে। তাই জন্য তারা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিংকে প্রিফার করে। কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর অনেক লিমিটেশনস আছে তাছাড়াও এর দামও সি প্যানেল হোস্টিং থেকে বেশি হয়। যেখানে সি প্যানেল হোস্টিংকে ব্যবহার করে আমরা ওয়ার্ডপ্রেসের মতো এপ্লিকেশনকে নিজেদের ওয়েবসাইটে ইনস্টল করে নিতে পারি। এমনকি আমরা চাইলে অন্য যেকোনো application install করে আমাদের ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন রকম ভাবে পরিচালনা করতে পারি। নিজের ইচ্ছামতো sub domain ক্রিয়েট করতে পারি। এবং সেই সাবডোমেন গুলিকে আমরা আলাদা রকম ওয়েবসাইট হিসাবে ব্যবহার করতে পারি। তাই আমি সি প্যানেল হোস্টিং প্রিফার করি।

এবং সি প্যানেল হোস্টিংকে শিখে ফেলা ও খুব সহজ।

আপনাদের মনে রাখতে হবে যেখান থেকে আপনি ডোমেইন কিনবেন সেই প্ল্যাটফর্ম থেকেই পোস্টিং কিনবেন। আমি ডোমেন এবং হোস্টিং কেনার জন্য যে ওয়েবসাইট রেকমেন্ড করি, সেই ওয়েবসাইটটি খুব জনপ্রিয় কারণ এখানে খুব কম দামে ডোমেন এবং হোস্টিং পাওয়া যায়। কম দামে পাওয়া গেলেও পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো।

আপনি যদি ডোমেইন এবং হোস্টিং সংক্রান্ত বিষয়ে আরো জানতে আগ্রহী হন তবে আপনি আমার দেওয়া ট্রেনিং নিতে পারেন। যেখানে আপনি ধাপে ধাপে শিখতে পারবেন কি করে একটি ওয়েবসাইটকে প্রফেশনাল লুক এন্ড টাচ দিতে হয়।

Leave a Reply